Logo
শিরোনাম
জুরাছড়িতে আগুনে পুড়ে নিঃস্ব সুনিল: মানবিক সাহায্য প্রয়োজন মন্ত্রী এ্যাড,দীপেন এঁর নির্দেশে পানছড়িতে  অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে মানবিক সাহায্য পটিয়ায় বি. চৌধুরী ফাউন্ডেশনের  চালসহ খাদ্য সামগ্রী  বিতরণ  ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত।  বিলাইছড়িতে পার্বত্য মন্ত্রীর ঈদ উপহার বান্দরবানে নিখোঁজের পর মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার ফারুয়া পানছড়িতে পুড়ে যাওয়া ত্রিপুরাদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, বিএনপি ও  ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ দুর্গম বড়থলি ইউনিয়নে ভিজিএফ ও ভিজিডি  বিতরণ বিলাইছড়ি ইউনিয়নে ভিজিএফ চাউল বিতরণ চকরিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৪ জন গ্রেপ্তার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে-এর ৩৮ জন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সাফল্য

ঈদগাঁওর ঐতিহ্যবাহী মাইজপাড়া খালটি ভরাট ও দখলে বন্দি, খনন দাবী এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও

দখল ও ভরাটে বিপন্ন ঈদগাঁওর ঐতিহ্যবাহী (বাইন্যা) খালটি। দীর্ঘকাল ধরে দেখার কেউ না থাকার খালের উপর ঘরবাড়ীসহ দোকানপাঠ নির্মানের হিড়িক পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে খালের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ার আশংকা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

সূত্র মতে, কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাইজ পাড়ার গ্রামীন খালটি এখন ভরাখালে পরিণত হয়ে পড়েছে। এ খাল দিয়ে একসময় পাল তোলা নৌকা চলাচল করত। বর্তমানে খালের অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে। কালের পরিক্রমায় সে খালের বুকে এখন পাকা-আধা-পাকা দালানে সমারোহ। দখলের থাবায় খাল এখন নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে। খালটি খননের মাধ্যমে স্বচল করার দাবী।

দেখা যায়, ঈদগাঁও মেহেরঘোনা জলনাসী যেটি উত্তর-মধ্যমসহ দক্ষিন মাইজপাড়া হয়ে চৌফলদন্ডীর বুকচিরে মহেশখালী চ্যানেল দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলিত হয়। এখন সে চিরচেনা বৃহৎ এলাকার খালটি নানাভাবে বেদখলে চলে গেছে। কেউ করে খালের পাশ ঘেঁষে দালান কেউ করে দোকান ঘর, কেউবা খালের মুল অংশ পর্যন্ত মাটি দিয়ে ভরাট করে রেখে। ফলে খালটি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। পূর্বের মত খোলাসা খাল আর নেই। এমনকি অনেকে খালের মাঝ অংশে মাটি ফেলে ঘিরে রাখে। অন্য অংশ দিয়ে পানি নিস্কাশনে ব্যাঘাত ঘটছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই।

জানা যায়, ২২ ফ্রেরুয়ারী সিনিয়র সহকারী সচিব শাহ মো: শামসুজ্জোহা স্বাক্ষরিত খনন ও পূন:খনন উপযোগী খালের তথ্য প্রেরণ বিষয়ক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এটির পর আশার আলো দেখেছেন এলাকাবাসী। খাল খননে মাইজ পাড়ার খালটি অন্তর্ভুক্ত করার আহবান জানান সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, এখন খাল বেদখল, পানি ও মাছ শুন্য। ক্ষীণধারা বয়ে যাওয়া খালে দুই ধারে এখন গড়া দোকান পাট এবং পাকা দালান। দখল আর দূষণের থাবা থেকে খালটিকে মুক্ত করে খনন করা না হলে আগামীতে এসব খালের কোন স্মৃতি চিহ্ন খোঁজে পাওয়া যাবেনা। প্রতিবর্ষা মৌসুমে পানি সুষ্টভাবে চলাচল করতে না পারায় দু-কুলই পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়ে। পানি যাতায়াতের সু ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবর্ষা মৌসুমে সারাক্ষন পানিবন্দি থাকে হাটাচলার পথও।

বয়োবৃদ্বরা জানান, এটি একসময় বড় খাল ছিল। খাল দিয়ে নৌকা সাম্পান চলাচল করত, মাছও পাওয়া যেত বলে শুনেছেন। অব্যবস্থাপনা কারণে পানি প্রবাহ হারানো খাল এভাবে দখলে চলে যাচ্ছে। খাল উদ্ধারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তড়িৎ পদক্ষেপ এখন সময়ের গনদাবী।

সচেতন মহল জানান, অবিলম্বে এ খাল দখলমুক্ত করে খননের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা না গেলে এসব খাল অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। বন্যা ও জলাবদ্বতাসহ নানামুখী দূর্ভোগের কবলে পড়বে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার লোকজন। বিগত প্রায় একযুগ পূর্বে ঈদগাঁওর মাইজ পাড়ার বাইন্যা খালটি খননের মাঝপথে বাঁধা আসায় খনন না করে কৌশলে সটকে পড়েছিল খননের কাজে নিয়োজিত লোকজন।

স্থানীয় ছৈয়দ করিম জানান, একসময়ে খালটি চল মান ছিল। পরক্ষনে কিছু কতিপয় ব্যাক্তিদের কারনে এটি প্রায় দখল। ফলে বৃহত্তর মাইজ পাড়া বর্ষামৌসুমে পানি চলাচলের কোন কোন সুনির্দিষ্ট পথ না থাকার কারনে বসতবাড়ীতে পানি সয়লাভ হয়ে যায়। এ দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় ভরাটখাল খনন।

সচেতন ব্যবসায়ী নাছির উদ্দীন জানান, দীর্ঘদিনের পুরনো খালটি খনন করলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে। মাইজ পাড়ার খননটি খনন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!